সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস আর হাসিনা হতে আইক্কা বাশঃ মুহিত শেয়ারবাজার নিয়া


তিনি সেই এরশাদের আমলেও অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

আবুল মাল আব্দুল মুহিতকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই।

তার জ্ঞান গরিমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ আওয়ামী গোষ্ঠী বিশেষ করে আব্দুল গাফফার চৌধুরী। যে কারণেই হৌক এরশাদের সাথে মুহিতের বনিবনা না হওয়ায় তিনি ঐ সময় মন্ত্রীত্ব ও দল ত্যাগ করেন। এই নিয়ে আগাচৌর বক্তব্য হল স্বৈরাচার ও র্দূনীতিগ্রস্থ তাই মুহিত এরশাদকে পরিত্যাগ করেন। তাই তিনি খুব ভাল কার করেছিলেন বলে মনে করে আগাচৌ। মুহিতের প্রশংসা করতে গিয়ে আগাচৌ বলেন যে বিএনপির সাইফুর রহমান একজন হিসাবরক্ষক আর মুহিত হল সত্যিকারের অর্থনীতিবিদ।

আগাচৌর কথা স্পষ্ট যে মুহিত সাইফুর রহমানের চেয়ে মন্ত্রী হিসেবে অনেক ভাল। বস্তুত মুহিতের জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। সে সত্যিই ঝানু অর্থনীতিবিদ। কিন্তু যতই ঝানু হৌক তাকে যে পরিচালনা করে সে কেমন এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় বিশ বছর দেশের অর্থমন্ত্রী হলেও দেশের সার্বিক অবস্থা ও গতি প্রকৃতি তার অজানা ছিল না। তিনি মনে মনে সাজিয়েও ছিলেন যে কিভাবে দেশের অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাতে হবে।

সব কিছু ঠিক করে রাখলেও কি পয়েন্টে তথা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুহিত হাজার চাইেলেও সেগুলোকে সঠিক তথা সৎ ও ন্যায্য ভাবে এগিয়ে নিতে পারেননি। এই কারণেই দেশের খনিজ তথা গ্যাস, বিদ্যুৎ, পদ্মা সেতু ও যোগাযোগ এবং শেয়ারবাজারে এত অনিয়ম, র্দূনীতি ও বিপর্যয়কর অবস্থা। দেশের তথা রাষ্ট্রীয় আয় কখনই পর্যাপ্ত না থাকলেও অন্য সরকারের আমলে ঘাটতি একটি সামঞ্জস্যতার মধ্যে ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে রাষ্ট্রের বেপরোয়া ভাবে অর্থ অপচয় হওয়ার কারণে এর ফলাফল ঋণাত্নক। বিপসি, পিডিবি, বিসিক সহ সবাই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বর্তমানে কি রাষ্ট্রীয় কি বেসরকারী কো ব্যাংকই সরকারকে ঋণ দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ শক্তিশালী নয়। ঐ দিকে বেসরকারী ব্যাবসায়ীরাও তাদের চাহিদার এক তৃতীয়াংশ ব্যাংক ঋণ পায়। যা আগে কখনও হয়নি। এমনকি বিশ্বব্যাংক, আই.এম.এফ, এডিবি ঋণ দিতে প্রায় অস্বীকার করলে হাসিনা দেশের সার্বভৌমত্ব বন্ধক দিয়ে ঋণ নেওয়ার সক্রিয় চিন্তা করেছিল। শেষমেশ আই.এম.এফ কঠিন শর্তে এক বিলিয়ন ডলার ঋণ মঞ্জুর করে। যাতে সরকার চাহিদার অর্ধেকেরও কম ভর্তূকী বরাদ্দ করবে, ব্যাংক হতেও তেমন ঋণ নিতে পারবে না, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ঘটাতে হবে। তথা জনগণের উপর আরোও বাড়তি বোঝা চাপবে। এগুলোর বেশীর ভাগই হাসিনার সরকারের র্দূনীতি যা পরোক্ষ ভাবে জনগণের অর্থ লুটপাট করা। আর শেয়ারবাজার হচ্ছে সরাসরি লুটপাট।

এটাই নতুন নয় এর আগেও হাসিনা প্রথম ক্ষমতায় আসালে শেয়ারবাজার হতে তার ঘনিষ্ঠ জনরা ৪০-৬০ হাজার কোটি টাকা কারসাজি- র্দূনীতির মাধ্যমে লুটে নেয়। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী কিবরয়িা বলেছিল তিনি নাকি শেয়ারবাজার বুঝেন না। অনেক দেনদরবার করে ১৯৯৭ সালে এমন দূর্বল ভিত্তিতে মামলা হয়েছিল যা না পারে সালমান দরবেশদের শাস্তি দিতে না পারে নতুন ভাবে শক্তিশালী মামলা করতে। আর এই দফা আরো প্রবল ভাবে মানুষকে ফুসলিয়ে হাসিনার দরবেশ, ফারুক খান, লোটাস কামালরা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করায়। রিকশাওয়ালা, সাধারণ মুদি দোকানীকে বলে সকালে ১০ হাজার খাটালে বিকালে ২০ হাজার। এটা এক সপ্তাহ পরে এক লক্ষ টাকা হবে। এটা ২০০৯ এর শেষ হতেই এই ধান্ধা শুরু করে। ২০০১-০৬ সালে সাইফুর রহমান

এমন নিয়ম বেধে দিয়েছিলেন যে কোন কোম্পানীর শেয়ার এক দিনে ১০% এর বেশী মূল্য বৃদ্ধি ঘটলে তার লেনদেন স্থগিত এবং এমনকি সেই কোম্পানীকে কাল তালিকা ভূক্ত করা হবে। এর জন্যই ঐ মেয়াদে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন বহু কোম্পানীর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়াতে কোন বিপর্যয় ঘটেনি। আর এইবার ১০% মূল্য বৃদ্ধি তো কথাই নেই এমনকি ভূয়া নাম সর্বস্ব কোম্পানীকে আই.পি.ও ভূক্ত করা হয়। ফলাফল ২০১০ সালের শেষে এবার

২ লক্ষ কোটি অধিক টাকা লুটপাট হল। তাতে প্রায় ৩৩ লক্ষ সাধারণ বিনিয়োগকারী ধরা খেল। তারা যখন সর্বসান্ত এবং তাদের হতে কারসাজি করে অর্থলুটকারীদের ধরাতো দূর উল্টো তাদের টিটকারী, কটাক্ষ করা হল। তারা ফটকাবাজ, গন্ডগোল সৃষ্টিকারী ইত্যাদি খারাপ বিশেষণ। আর ঐ দিকে মূল নিয়ন্ত্রক হাসিনার কথাও বড়ই মজাদার “বিএনপি আমলে শেয়ারবাজার নড়েও না চড়েও না, আমার আমলে শেয়ারবাজার

দারুণ চাঙ্গা হয়”! শেয়ারবাজারে ৩৩ লক্ষ বিনিয়োগকারীকে চক্রান্তের মাধ্যমে সরাসরি লুট করা হয়েছে এটা হাসিনা মানতে নারাজ। কারণ হাসিনা লুটের একটা বড় অংশ বখরা পেয়েছে। এই কারণে ইব্রাহিমের কমিশনে লুটেরাদের নাম প্রকাশ করতে পারছে না

মুহিত। বলে যে লুটেরারা নাকি খুব প্রভাবশালী ব্যাক্তি! এই প্রভাবশালীটা কে তাদের বানাল? লুটেরারা লুট করেই যাচ্ছে তাদের নিয়ে কোন দূশ্চিন্তা নাই মুহিতের। অথচ ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ করলে এখন তিনি ত্যাক্ত-বিরক্ত;

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: